হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসরায়েলের কেবিনেট বুধবার ‘E1’ এলাকায় নির্মাণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তরাংশ দক্ষিণ অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ইসরায়েলি দৈনিক হা-আরৎজ এই পদক্ষেপকে ‘বিতর্কিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এটি বহু বছর স্থগিত ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর প্রতিক্রিয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে, যা দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করবে।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ অনুমোদনের পর বলেন, “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কার্যত বিলীন হবে, কেবল বাগ্বাজি নয়।” তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, “পরবর্তী ধাপ হিসেবে পুরো পশ্চিম তীরের উপর ইসরায়েলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করুন।”
এই পরিকল্পনার অধীনে ‘E1’ এলাকায় মোট ৩,৪১২টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণ করা হবে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিলাম ও নির্মাণ অনুমোদন জারি করতে পারবে এবং নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। যদিও বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পরিকল্পনাগুলি স্থগিত ছিল, বর্তমান ইসরায়েলি কেবিনেট মার্কিন সমর্থন নিয়ে পশ্চিম তীরের নির্মাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
E1 অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব
E1 অঞ্চল প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এবং এটি ‘মালিইয়্যে আদুমিম’ শহরের উত্তরে ও পশ্চিমে অবস্থিত। এই শহরটি দখলকৃত কুদসের পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো সতর্ক করেছেন, E1 হলো পশ্চিম তীরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের—রামাল্লাহ, পূর্ব কুদস ও বেইতলেহেম—মধ্যবর্তী সংরক্ষিত জমি। এখানে প্রায় এক মিলিয়ন ফিলিস্তিনি বসবাস করে।
সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের কেন্দ্র থেকে দখলকৃত কুদস পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন অঞ্চল তৈরি হবে। এতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠন ও অস্তিত্বের যে সম্ভাবনা আছে, তা কার্যত বিলীন হয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
E1 অঞ্চলে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনি নেতা ও মানবাধিকার সংস্থা তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারকে বিপন্ন করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে; যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা বজায় রাখার জন্য চাপ প্রদান করতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কেবিনেট মার্কিন সমর্থন নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ায় কোনও ধরণের বাধা ছাড়াই নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
মানবাধিকার ও মানবিক প্রভাব
E1 অঞ্চলে নতুন বসতি নির্মাণ শুরু হলে প্রায় এক মিলিয়ন ফিলিস্তিনির জীবনযাত্রা প্রভাবিত হবে। তাদের বসতি, যাতায়াতের পথ ও সামাজিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের জন্য পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক কাঠামোর উপর চাপ বৃদ্ধি করবে।
বিশদ বিশ্লেষণ:
১. E1 এলাকা: পশ্চিম তীরের গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত অঞ্চল, যা রামাল্লাহ, পূর্ব কুদস ও বেইত-লেহেমকে সংযুক্ত করে।
২. প্রভাব: ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক সংহতি ভেঙে দিতে পারে।
৩. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় দেশগুলো দুই রাষ্ট্র সমাধানের বাধা হ্রাসে চাপ প্রয়োগের সম্ভাবনা।
৪. মানবিক প্রভাব: প্রায় এক মিলিয়ন ফিলিস্তিনি বসতি ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে।
আপনার কমেন্ট